ইউরোপিয়ান কমিশন অটোমোবাইল শিল্পে ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রার সময়সীমা শিথিল করার প্রস্তাব দিয়েছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এ প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের পরিবর্তে ২০২৫-২৭ সালের গড় নিঃসরণের ভিত্তিতে লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনা করা হবে। ফলে ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতারা কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে এক বছরের পরিবর্তে তিন বছর সময় পাবে। খবর রয়টার্স।
এক বিবৃতিতে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, ‘আজকের উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এ গুরুত্বপূর্ণ খাতকে আরো নমনীয়তা দিচ্ছি। একই সঙ্গে জলবায়ু লক্ষ্যেও অটল থাকছি।’
তবে এ প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত নয়। এটি কার্যকর হতে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও সদস্য দেশগুলোর সম্মতি প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশ ও শিল্পগোষ্ঠী এ প্রস্তাবে ভিন্ন ভিন্ন পরিবর্তনের দাবি জানাতে পারে। গাড়ি নির্মাতাদের মধ্যেও মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ভক্সওয়াগন ও রেনল্ট সময়সীমা বাড়ানোর পক্ষে মত দিলেও ভলভো কারস এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ভলভোর দাবি, তারা এরই মধ্যে ২০২৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় বিনিয়োগ করেছে।
ই-মোবিলিটি ইউরোপের মতো সংগঠন সতর্ক করে দিয়েছে, ২০২৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা শিথিল করলে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি ও চার্জিং অবকাঠামোয় বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। তারা মনে করে, এটি ইউরোপকে চীনের তুলনায় প্রযুক্তিগত দিকে পিছিয়ে দেবে।
প্রসঙ্গত চলতি বছর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা কার্যকর হয়। গড় নিঃসরণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বেশির ভাগ গাড়ি নির্মাতাদের মোট বিক্রির অন্তত এক-পঞ্চমাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি হতে হবে বলে নিয়ম বেঁধে দেয়া হয়। ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতারা এ লক্ষ্যমাত্রার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করে বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন বিক্রি হচ্ছে না। ফলে তারা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায়ও পিছিয়ে পড়ছে।
তবে স্বল্পমেয়াদে গাড়ি নির্মাতাদের জন্য কিছুটা ছাড় দেয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু নীতি অটুট রাখাই এখন ইইউর মূল কৌশল। ইইউর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের পর নতুন বিক্রীত সব গাড়ির কার্বন নিঃসরণ শূন্য হতে হবে।